ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিক। রাজনীতির মাঠে পা রেখেছিলেন ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে। এরপর বিএনপি। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের। ভাটির অঞ্চল দিরাইয়ের কৃতিসন্তান আজমল হোসেন চৌধুরী জাবেদ এবার নির্বাচন করতে চান সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে।
এর আগে ২০১৮ সালে তিনি আসনটি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দলীয় মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। পরে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে তিনি কাজ করেন জোটপ্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে। তবে এবার পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী আজমল চৌধুরী। সুখে-দুঃখে সাধারণ মানুষের পাশে থাকায় এলাকার মানুষও চাচ্ছেন তার হাতেই যেন শোভা পায় ধানের শীষ প্রতীক।
সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে ছাত্রদলের হাত ধরে রাজনীতিতে নাম লেখান আজমল হোসেন চৌধুরী জাবেদ। দিরাই ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কও ছিলেন তিনি। উপজেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পদে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দিরাইয়ে ছাত্রদলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দিরাই উপজেলা ছাত্রদলে নিজের ত্যাগ ও সততার পরীক্ষায় উন্নিত হয়ে তিনি স্থান করে নেন সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলে। উপজেলা থেকে উঠে আসেন জেলার রাজনীতিতে।
১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তিনি মাঠে প্রচারণায় নামেন। তরুণ ছাত্রদলকর্মী হিসেবে তিনি ওইসময় স্থানীয় ও জেলার নেতাদের নজর কাড়েন। ২০০২ সালে উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমালেও রাজনীতির পাঠ থেকে বিদায় নেননি। যুক্ত হন সেখানকার বিএনপির রাজনীতিতে। নর্থ ওয়েলস এর বাসিন্দা হিসেবে তিনি সেখানে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। নর্থ ওয়েলস বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির গুরুদায়িত্ব পালন করেন তিনি।
দলের প্রতি বিশ্বস্থতা ও দুঃসময়ে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলার পুরস্কার হিসেবে তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, সহসাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
দিরাই-শাল্লার মানুষের কাছে আজমল হোসেন চৌধুরী জাবেদ কেবলমাত্র একজন রাজনীতিবীদ হিসেবে পরিচিত নন। একজন সমাজকর্মী ও মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিত। করোনা ও বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে দিরাই-শাল্লার অসহায় মানুষের কাছে তিনি ত্রাতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। কখনো নিজ উদ্যোগে আবার কখনো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সময় যখন অনেক নেতা হামলা-মামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে দেশে ফেরেননি তখন বারবার সাহসী ভূমিকা রেখেছেন আজমল হোসেন। তারেক রহমানের নির্দেশে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে এবং আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে তিনি দেশে ছুটে এসেছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিনি মাঠে ছিলেন সরব। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা জড়িয়েছেন অসংখ্য মামলায়। আজমল হোসেন চৌধুরী তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে অসীম সাহস আর মনোবল নিয়ে। বাড়িয়ে দিয়েছেন সহযোগিতার হাত। সাহস যুগিয়েছেন কারান্তরিণ নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারকে।
রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সরব ছিলেন আজমল চৌধুরী। তিনি সুনামগঞ্জ জাতীয়তাবাদী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ সিলেটের প্রধান উপদেষ্টা, যুক্তরাজ্যস্থ দিরাই থানা ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, দিরাই ছাত্রকল্যাণ পরিষদ সিলেটের সাবেক সভাপতি ও যুক্তরাজ্যস্থ গ্রেটার সিলেট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
দিরাই আনোয়ারপুর নয়াহাটি গ্রামের মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও রুবি চৌধুরীর সন্তান আজমল হোসেন চৌধুরী জাবেদ রাজনীতি ও সমাজসেবার পাশাপাশি একজন সফল ব্যবসায়ীও। তিনি লন্ডনের ক্যানিং টাউনের বার্কিং রোডের এএইচসি ফুডস ও নর্থ ওয়েলস বাঙ্গরের স্পাইসি ভোজনের স্বত্ত্বাধিকারী। দেশেও রয়েছে তার ব্যবসা-বাণিজ্য। তিনি সুনামগঞ্জ দিরাইয়ের আজমল কনভেনশন হল ও সিলেটের খাদিমনগরের আজহান ডেইরি ফার্মের স্বত্তাধিকারী। এছাড়াও সিলেটের বিখ্যাত দুগ্ধজাতপণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান দুধওয়ালার একজন অংশীদার। আজমল হোসেন চৌধুরী দুই ছেলে ও এক মেয়ের গর্বিত জনক।
রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান আজমল হোসেন চৌধুরী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, শৈশব থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্ধুদ্ধ। রাজনীতির বিভিন্ন বাঁক পেরিয়ে এখন তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতির সুবাদে তিনি দিরাই-শাল্লার মানুষের কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকায় দুই উপজেলার মানুষ তাকে আপন করে নিয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মানুষের সাথে তাঁর আরও সম্পৃক্ততা বেড়েছে। অবহেলিত দিরাই-শাল্লাবাসী এবার চাইছে তাদের প্রকৃত দরদী একজন নেতাকে শহীদ জিয়ার হাতে গড়া দলের প্রার্থী হিসেবে। সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও দলীয় নেতাকর্মীদের উৎসাহে তিনি বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন। দল তার প্রতি আস্থা রাখলে সুনামগঞ্জ-২ আসনটি তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন মাদার অফ ডেমোক্রেসি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার দিতে পারবেন।