সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:-
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে একে অপরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিদ্ব›িদ্ব সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা।
শনিবার দুপুর ১২টায় কুৎসা রটানো বা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগে সম্মেলন করেছেন তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আব্দুস সামাদ মুন্সি। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কালীবাড়ী সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিংদের উপস্থিতিতে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
২০০৯-২০১৫ সাল পর্যন্ত আমি উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৭ সালে আমাকে তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক করা হয়। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের মিথ্যা মামলার আসামী হই (এফআইআর নং- ১/১৫২)। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের নির্দেশে উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীলরা আমাকে উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির ১১ সদস্যের আহবায়ক কমিটির সদস্য করেন।
সম্মেলনে নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু দলে একে অপরের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো বা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো কোনভাবেই কাম্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে যত আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে সেখানে আমার অংশগ্রহণ ছিল। আমি উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে আমি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। এই পদে আরও তিনজন প্রতিদ্ব›দ্বী আছেন, তাদের মধ্যে দুইজন শামছুল হক (শামছুল হক মেম্বার) ও কামাল হোসেন আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছেন। অথচ ২০০৮ সালের ধানের শীষের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেন শামছুল হক মেম্বার। এছাড়াও ১৫ আগস্টে শেখ মুজিবের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিচ্ছেন, এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন ঘুরছে। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল শামছুল হক মেম্বারের গলায় মালা তুলে দিয়ে দলের সঙ্গে (আওয়ামী লীগের সঙ্গে) তাকে (শামছুল হককে) যুক্ত করছেন, সেই ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আছে।
এছাড়াও শামছুল হক মেম্বারের বিরুদ্ধে কয়লার ডিপোতে কয়লা চুরি করার অপরাধীদের আস্কারা দেবার অভিযোগ এলাকাজুড়ে মুখে মুখে আছে। পাঁচ আগস্টের পর থেকে সীমান্ত দিয়ে আসা মাদক কারবারীদের সঙ্গেও তার যোগসাজস আছে বলে এলাকায় প্রচার আছে। তার আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে চারাগাঁও-কলাগাঁও ছড়া দিয়ে আসা বাংলা কয়লা, সরকারি বালু লুটপাটের অভিযোগ বহু পুরনো। পাঁচ আগস্টের পর দলের প্রভাব খাটিয়ে, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে চাচাতো ভাই আতাউর রহমানকে দিয়ে শ্রীপুর নদীর পাড়ে অবৈধ ক্রাসার মেশিন বসিয়েছেন। এসব অভিযোগ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অসংখ্য অভিযোগ আছে। দলের একজন কর্মী হিসেবে আপনাদের মাধ্যমে দলীয় ঊর্ধ্বতনদের কাছে এসব বিষয় অবগত ও যাচাই সাপেক্ষে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবার জন্য দলীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আমি।
এদিকে গত শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করেন অপর দুই সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী তাহিরপুর উপজেলা বিএনপি-র সাবেক সহ-সভাপতি শামসুল হক ও শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড সভাপতি মো. কামাল হোসেন। তারা বলেন, আব্দুস সামাদ মুন্সি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার ভাই আব্দুল কুদ্দুস ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর নাশকতার একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত করলে সব বিষয়ের সত্যতা পাওয়া যাবে, এসময় তারা তার মনোনয়ন বাতিল করার আবেদনও জানিয়েছেন।