শাহ্ ফুজায়েল আহমদ,বিশেষ প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার হাসপাতাল পয়েন্টসংলগ্ন ছিক্কা মসজিদ মার্কেটে শুক্রবার ভোররাতে ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক অগ্নিকাণ্ড। এই আগুন মুহূর্তেই পুরো মার্কেটে ছড়িয়ে পড়ে এবং ১১টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এতে অন্তত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। স্থানীয়রা ধোঁয়া ও লেলিহান আগুন দেখতে পেয়ে দ্রুত চেষ্টা চালালেও আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। খবর দেওয়া হলেও নিকটবর্তী জগন্নাথপুর ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি—এ তথ্য স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়।
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশক্রমে এসআই দীপঙ্কর হাওলাদার ,সঙ্গীয় ফোর্স, গণমাধ্যমকর্মী, বাজার সেক্রেটারি বিলাল আহমদ ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সহায়তায় আগুন নেভানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকে।পরে সিলেট জেলার বিশ্বনাথ ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে টানা প্রচেষ্টায় সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
সকাল ৯ টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বরকত উল্লাহ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সান্ত্বনা দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। আশ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
অগ্নিকাণ্ডস্থল থেকে জগন্নাথপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে হলেও তারা ঘটনাস্থলে না পৌঁছানোয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, এটি নতুন ঘটনা নয়—আগেও বারবার অগ্নিকাণ্ডের সময় দেরিতে পৌঁছানো বা বিভিন্ন অজুহাতে না যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে জগন্নাথপুর ফায়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জগন্নাথপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মুর্শেদ আলম বলেন,
আমরা স্টেশন থেকেই আগুন দেখতে পেয়েছি। কিন্তু পৌরপয়েন্টে নির্মাণাধীন আর্চ ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ায় ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। তবে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বনাথ ইউনিটকে অবহিত করি। ঘটনাটি দুঃখজনক।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দাবি—অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় দ্রুত সংস্কার ও কার্যকর সমন্বয় না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।