দিরাই প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ-০২ (দিরাই–শাল্লা) আসনে বিএনপির প্রার্থী, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, দীর্ঘ প্রায় পঞ্চাশ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি সবসময় দিরাই–শাল্লার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, “আপনারা আমাকে দুইবার দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। আপনাদের এই ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই।”
রোববার বিকেলে দিরাই উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের শেষ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাছির উদ্দীন চৌধুরী বলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনি আশানুরূপ উন্নয়ন করতে পারেননি। একই কারণে সাবেক সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে দিরাই–শাল্লার উন্নয়নের দায়িত্ব দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—দু’দলই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, আমরা একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। কিন্তু জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি, তারা আমাদের বন্ধু নয়।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নাছির উদ্দীন চৌধুরী বলেন, “আমি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আপনাদের সেবা করতে চাই। এটি আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। এরপর আর কখনো ভোট চাইতে আসব না। আপনারা দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে ধানের শীষে ভোট দিন। এই জয় হবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার, এই জয় হবে তারেক রহমানের, আর এই জয় হবে আপনাদের।”
দিরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেনের সভাপতিত্বে এবং পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী রুমি, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, জেলা জাসাসের সভাপতি শেরগুল আহমেদ, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আবুল মনসুর শওকত, জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন চৌধুরী জাবেদ।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন নাছির উদ্দীন চৌধুরীর বড় মেয়ে নাজিয়া চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।