দিরাই প্রতিনিধি::
দিরাই উপজেলা বিএনপির ২১ জন সদস্য উপজেলা ও পৌরসভার ১২ টি ভোট কেন্দ্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন এ ১২ টি কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী যে পরিমান ভোট পাবেন তা সমন্বয় করতে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীকে দিরাই উপজেলার ৪৮ টি কেন্দ্রের ভোট দিয়ে ও সম্ভব নয়। এমন তথ্য সামনে আসার পর সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দৃঢ় ধারণা জন্মেছে, এই ১২ কেন্দ্রেই ধানের শীষ প্রতীকের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে এই ১২ কেন্দ্রের ব্যবধান ঘোচানো প্রায় অসম্ভব। কারণ, প্রতিটি কেন্দ্রই অতীতে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং এবারও ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমীর আলী ও প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক ভোট দেবেন দিরাই পৌরসভার হাজী মাহমদ আলী দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে-যেটি বিগত সব নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয়ী কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। একইভাবে সিনিয়র সদস্য আব্দাই মিয়া ভোট দেবেন ভরার গাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে, যেটিও বিএনপির শক্ত অবস্থানের কেন্দ্র।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সুজানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। এখানে ভোট দেবেন সিনিয়র সদস্য আব্দুর রশিদ চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম চৌধুরী, সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী ও ইফতেখার মো. নাবিল চৌধুরী। এ কেন্দ্রেই উপজেলা বিএনপির সর্বাধিক নেতা ভোট দেওয়ায় সাধারণ ভোটারদের ধারণা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এখানে ন্যূনতম ভোটই পেতে পারেন।
পৌরসভার চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সদস্য আব্দুল কাইয়ুম এবং সদস্য সুমন মিয়া। রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির তালুকদার ও সদস্য অ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান চৌধুরী মিশু। এসব কেন্দ্রও ধানের শীষের নির্ভরযোগ্য ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত।
এ ছাড়া জগদল ইউনিয়নের দৌলতপুর মাদ্রাসা কেন্দ্রে যুগ্ম আহ্বায়ক কবির মিয়া ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহানা আলম চৌধুরী ভোট দেবেন। ধল আশ্রম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দেবেন নুরুল হক তালুকদার ও শোয়েব হাসান। চানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন পংকজ দাস-যে কেন্দ্রটি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এই কেন্দ্রে ধানের শীষের একচেটিয়া ভোট পড়বে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
সাকিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন আবু সাঈদ চৌধুরী, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য মিফতা উদ্দিন চৌধুরী রুমির গ্রামের বাড়ী রাড়ইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন আবুল খায়ের চৌধুরী এবং কলিয়ারকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন কামরুল ইসলাম। শুকুরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন সুকেশ দাস।
সাধারণ ভোটার ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, এই ১২টি কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি হবে উপজেলার অন্য যেকোনো কেন্দ্রের তুলনায় বেশি। নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এবং বিএনপি নেতাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ধানের শীষের পক্ষে বড় সুবিধা তৈরি করেছে। তাদের বিশ্বাস, এই কেন্দ্রগুলোর রেকর্ডসংখ্যক ভোটই শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করবে।
জানা যায়, যেসব ইউনিয়নে উপজেলা পর্যায়ের নেতা নেই, সেখানে ইউনিয়ন কমিটির নেতারাই কেন্দ্রগুলোর দায়িত্ব পালন করছেন। সব মিলিয়ে দিরাইয়ে নির্বাচনের ফলাফল যে মূলত এই ১২ কেন্দ্রেই নির্ধারিত হবে-এ নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে এখন আর তেমন দ্বিমত নেই।
সুত্র – সুরমা পোস্ট