ডেক্স রিপোর্ট::
দেশের আটটি বিভাগের আটটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এই কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও মাহ্দী আমিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সাতটি মন্ত্রণালয়ের সচিব এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
এই কমিটি মূলত ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের একটি উপযুক্ত নকশা বা ডিজাইন এবং সুবিধাভোগী নির্বাচনের পদ্ধতি প্রণয়ন করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলা নির্বাচন করে সেখানে এই কার্ড প্রবর্তনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কর্মসূচিকে এই কার্ডের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, কমিটি তা পর্যালোচনা করবে।
এ ছাড়া সুবিধাভোগীদের ডাটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেইজের মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে একটি ডিজিটাল এমআইএস প্রণয়নের সুপারিশ করবে এই কমিটি।
আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সেই লক্ষ্য পূরণে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে কমিটিকে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির সভা প্রয়োজন অনুসারে অনুষ্ঠিত হবে এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।
কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো নতুন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতা রাখবে।
পাইলট কর্মসূচির এলাকা
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে পাইলট প্রকল্প নেওয়ার জন্য প্রত্যেক বিভাগের একটি করে উপজেলা ঠিক করা হয়েছে। উপজেলাগুলো হচ্ছে রংপুর বিভাগে কুড়িগ্রাম সদর; খুলনা বিভাগে শ্যামনগর; সিলেট বিভাগে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই; চট্টগ্রামের লামা উপজেলা; বরিশালের চরফ্যাশন উপজেলা; ঢাকা বিভাগের কেরাণীগঞ্জ উপজেলা, ময়মনসিংহ বিভাগের নান্দাইল উপজেলা এবং রাজশাহী বিভাগের পবা উপজেলাকে এই পাইলট কর্মসূচির জন্য নেওয়া হয়েছে। এসব উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চলবে ৬ মাস, এতে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর পুরোটাই সরকারি অর্থায়ন থেকে ব্যয় হবে। এসব উপজেলায় দেড় লাখ উপকারভোগী রয়েছে।