দিরাই প্রতিনিধি:
‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিরাই ইয়ুথ পিস এম্বাসেডর গ্রুপ-এর উদ্যোগে এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর এমআইপিএস প্রকল্পের সহযোগিতায় তরুণদের সামজিক উদ্যোগ প্রকল্পের আওতায় রোববার বিকেলে দিরাই স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে এক যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ওয়াইপিএজির যুগ্ম সমন্বয়কারী আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং দিরাই পিএফজির সমন্বয়কারী সামছুল ইসলাম সরদার খেজুর ও ওয়াইপিএজির যুগ্ম সমন্বয়কারী লিপিকা বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও পিস এম্বাসেডর আব্দুর রশিদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিরাই উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল কুদ্দুছ, দিরাই ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, দিরাই উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান খান এবং দিরাই প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান লিটন।
বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জুনায়েদ মিয়া এবং ছাত্রশিবিরের সাথী হাবিবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের কুদরত পাশা।
সভায় জানানো হয়, পিএফজি উদার, অসাম্প্রদায়িক, বহুত্ববাদী ও সহনশীল সমাজ এবং রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ, সহিংসতা নিরসন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ এবং ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিনির্মাণে সংগঠনটি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা প্রতিরোধ এবং স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি-সম্প্রীতি জোরদারে ইয়ুথ পিস এম্বাসেডর গ্রুপ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানানো হয়।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক ও পিএফজি সদস্য সালাহ উদ্দিন তালুকদার, সৈয়দুর রহমান তালুকদার, পঙ্কজ দাস, বকুল বণিক, রাজিয়া সুলতানা, শাম্মি আক্তার, পারভীন বেগম, শাহ আলম, হাফছা বেগম, দিরাই কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিয়া সরদার, ইয়ুথ সদস্য ইউসুফ খান, লিপিকা বিশ্বাস ও দূরপতি নন্দী প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, আজকের এই তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজনের জন্য আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ। “সংঘাত নয়, শান্তি-সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি”—এই শ্লোগান শুধু একটি বাক্য নয়; এটি ভবিষ্যতের অঙ্গীকার। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—ঐক্যবদ্ধ থাকলে জাতি এগিয়ে যায়।
তরুণরাই দেশের শক্তি ও পরিবর্তনের অগ্রদূত উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, আজকের যুবসমাজ যদি সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে, তাহলে সংঘাতের সব দেয়াল ভেঙে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়া সম্ভব। শান্তি প্রতিষ্ঠা কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি, গুজব প্রতিরোধ এবং বিভেদের বদলে ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শেষে সবাইকে হিংসা ও বিভেদ পরিহার করে মানবতা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।